ডায়েট নিয়ে প্রচলিত মিথ বা ভ্রান্ত ধারণা

ডায়েট নিয়ে প্রচলিত মিথ বা ভ্রান্ত ধারণা

যতই দিন যাচ্ছে মানুষের মধ্যে ডায়েট নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে নানা রকম ভুল ধারণা। স্বাস্থ্য রক্ষার প্রথম ও প্রধাণ শর্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। তাই স্বাস্থ্য রক্ষার খাতিরে অনেকেই বিভিন্ন রকম ডায়েট অনুসরণ করেন। কিন্তু নানা মুনির নানা মতের ভীড়ে আমরা মাঝে মাঝেই ভুল ঠিক মতের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলি। এই কারণে ডায়েট নিয়েও নানা রকম মিথ চালু হয়ে গেছে। এই মিথগুলো ফলো করে আমাদের ওজন কমার বদলে বরং বেড়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন এই ধরণের ডায়েট ফলো করে ত্বক, চুলসহ স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়ে যায়। চলুন এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো সম্পর্কে আজ জেনে নেই।

একবেলার খাবার মিস করা

ডায়েট শুরু করার পর সবার আগে যেই ভুলটা করা হয় তা হল এক বেলার খাবার মিস করা। আর সকালে আমাদের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশী থাকে। তাই এই সময়ের খাবারটা মিস করাটাই সবচেয়ে সহজ অপশন হয়ে যায়। অথচ এই সময়ের খাবারটাই সবচেয়ে জরুরী। সারাদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি আমরা এই ব্রেকফাস্ট থেকেই পেয়ে থাকি। এজন্য সকালের খাবার স্কিপ না করে বরং দিনের সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবার সকালেই খাওয়া শুরু করুন।

ক্রাশ ডায়েট শুরু করা

ডায়েট শুরু করার সময় সবচেয়ে বড় ভুল আমরা যেটা করি সেটা হল ক্রাশ ডায়েট শুরু করে দেই। সাত দিনে সাত কেজি, তিন দিনে তিন কেজি ওজন কমানোর লোভে পড়ে খাওয়া দাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেই। ফলস্বরুপ ওজন তো দ্রুত কমে যায়। কিন্তু আমাদের শরীরের ভিতরের অরগ্যানগুলোর বারোটা বেজে যায়।

ঔষধ এর উপর নির্ভর করা

বাড়তি ওজন নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সাথে সাথে বাজারে নতুন এক ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। নানারকম স্লিমিং পিল আর সিরাপে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এই ঔষধগুলো ক্ষতিকর ল্যাক্সাটিভ বৈকি আর কিছুই না। এগুলো খেলে খুব ঘন ঘন মলত্যাগের মাধ্যমে ওজন কমতে থাকে। নিয়মিত এসব ঔষধ সেবনে ত্বক ও চুলের ক্ষতি তো হয়ই, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে বন্ধ্যাত্ব এবং কিডনী ফেইলের মত বড় অসুখও হতে পারে।

ডায়েট থেকে ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে দেয়া

এই ভুলটি সবচেয়ে বেশী করা হয়। এটা সত্যি যে অতিরিক্ত ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য ভাল না। কিন্তু পরিমিত পরিমাণে ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *