বাচ্চাদের খিচুড়ি চিকেন ও ফুলকপির সাথে

বাচ্চাদের খিচুড়ি চিকেন ও ফুলকপির সাথে

বাচ্চাদের সলিড শুরু করার সময় আমরা সাধারণত খিচুড়ি দিয়েই শুরু করি। ডাক্তার থেকে শুরু করে আমাদের মা খালা সকলেই বাচ্চাকে খিচুড়ি খাওয়াতে উতসাহ দেন। এর অনেকগুলো কারণ আছে। একটি বাচ্চাকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে সকল পুষ্টি উপাদান খাওয়ানো উচিত। অর্থাত বাচ্চাকে অবশ্যই প্রতিদিন একটু করে কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস দেয়া উচিত। কিন্তু সকল মা মাত্রই জানেন আলাদা আলাদা ভাবে এসকল উপাদান বাচ্চাকে খাওয়ানো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু খিচুড়িতে একসাথে প্রায় সকল পুষ্টি উপাদানই থাকে। বাচ্চাদের খিচুড়ি এর মধ্যে চালে থাকে কার্বহাইড্রেট, ডালে ও মাছ মাংসতে থাকে প্রোটিন, সবজিতে থাকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলস। তাই বাচ্চাদের জন্য খিচুড়ি একটি পরিপূর্ণ খাবার। তাই দিনে অন্তত একবার বাচ্চাদের অবশ্যই খিচুড়ি খাওয়ানো উচিত।

আমি আমার বাচ্চার জন্য রান্না করা একটি খিচুড়ির রেসিপি শেয়ার করছি। বাচ্চার বয়স নয় মাস হয়ে গেলে আপনি এই খিচুড়ি দেয়া শুরু করতে পারেন। তবে অনেক ডাক্তার বাচ্চার বয়স একবছর হবার আগে লবণ, চিনি বা মাংস খাওয়াতে মানা করেন। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মত উপকরণ বাদ দিয়ে দিবেন।

বাচ্চাদের খিচুড়ি বানাবার উপকরণ

পোলাও চাল ২ টেবিল চামচ

মুগডাল ১ টেবিল চামচ

তেল ১ চা চামচ

পেঁয়াজ কুচি ১/২ চা চামচ

রসুন বাটা ১ চিমটি

আদা বাটা ১ চিমটি

ভাজা জিরা গুরা ১ চিমটি

লবণ সামান্য

চিনি সামান্য

চিকেন এক টুকরো

ফুলকপি ২টা ফুল

আলু ছোট একটা

পানি ১ কাপ

এলাচ ১টি

বাচ্চাদের খিচুড়ি বানাবার প্রণালী

ফুলকপি থেকে দুটি বড় ফুল নিতে হবে। এবার একটা কড়াতে পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। এতে ফুলকপি দিয়ে তিন মিনিট ফুটাতে হবে। এরপর পানিটা ফেলে দিয়ে ফুলকপি ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে ফুলকপি ফুটিয়ে ধুয়ে নিলে বাচ্চাদের গ্যাস হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

আলু আর চিকেন একদম ছোট টুকরো করে নিতে হবে।

এবার একটা ছোট প্রেশার কুকারে তেল গরম করে এলাচ ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা ভাজুন।

পেঁয়াজ কুচি ভাজা হয়ে গেলে রসুন বাটা ও আদা বাটা দিন। অল্প পানি দিয়ে হালকা করে কষাতে হবে যাতে মশলার কাঁচা গন্ধটা চলে যায়।

এবার চিকেন, ফুলকপি, আলু কুচি দিতে হবে। সেই সাথে চিনি, লবণ ও ভাজা জিরা গুড়াও দিয়ে দিতে হবে। এক থেকে দুই মিনিট মশলার সাথে নেড়ে নিতে হবে।

এরপর চাল, ডাল ও পানি দিয়ে দিতে হবে। প্রেশার কুকার ঢেকে দিতে হবে। দুই থেকে তিনটা সিটি উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খিচুড়ি হয়ে গেলে নামিয়ে চামচ দিয়ে ভাল করে ঘুটে নিতে হবে। ইচ্ছা হলে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ডও করে নিতে পারেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *